সাইনুসাইটিজ থেকে মুক্তির উপায়

সাইনোসাইটিজঃ

মুখমন্ডলের হাড়ের ভিতরে কতগুলো ফাঁপা জায়গা আছে তাকে সাইনাস বলে। কোন কারণে যদি সাইনাসগুলির মধ্যে ঘা বা প্রদাহ হয় তখন তাকে সাইনোসাইটিস বলে।

অ্যাকিউট (বা তীব্র) সাইনোসাইটিসঃ

১. নাকে সর্দি হওয়া বা নাক দিয়ে ক্রমাগত পানি পড়া এবং শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া; বিশেষত যখন ঠাণ্ডায় আক্রান্ত ব্যক্তি সাত দিনেরও বেশি সময়ে সেরে না ওঠে।

২. নাক দিয়ে সবুজ কিংবা হলুদ পদার্থ বেরিয়ে এলে। মাঝেমধ্যে অবশ্য রক্তের ছোঁয়াও সেখানে লেগে থাকতে পারে। আক্রান্ত ব্যক্তির গলার ভেতরে খুসখুস করে, অস্বস্তিকর অনুভব হওয়া এবং সে কারণে কাশি হওয়া।

৩. কপালে কিংবা চোখে বা চোখের চারপাশজুড়ে চাপ বা বদ্ধতা কিংবা ব্যাথা অনুভব করা। এই ব্যথা হয়তো কপাল থেকে মাথার পেছনের দিকে সরে যেতে পারে এবং সকালে এই ব্যথা আরও তীব্র হয়ে উঠতে পারে।

৪. নাক দিয়ে একটা বাজে গন্ধ বের হয়, কিংবা নিঃশ্বাসের সঙ্গে দুর্গন্ধ বের হয়। কখনও কখনও জ্বর, ওপরের চোয়ালে ব্যাথা হয়।

দীর্ঘস্থায়ী সাইনোসাইটিসঃ

সাইনাসের জমাটবদ্ধতা এবং নাক দিয়ে তরল নির্গমন, যেটা এক মাসেরও বেশি সময় ধরে স্থায়ী থাকে।

যা করা উচিতঃ

১. প্রচুর পানি পান করতে হবে—প্রতিদিন ন্যূনতম আট থেকে দশ গ্লাস।

২. জমাটবদ্ধ সাইনাসের কষ্ট থেকে স্বস্তি পেতে বাষ্পের সামনে নাক নিয়ে শ্বাস নেওয়া যেতে পারে। গরম পানি দিয়ে স্নান করতে হবে, কিংবা একটা উষ্ণ ও ভেজা কাপড় নাকের ওপর চেপে ধরে রাখতে হবে।

৩. মুখে এবং নাকে ব্যবহারের জন্য যে ডিকনজেসট্যান্ট (বদ্ধতানিরোধক) স্প্রে পাওয়া যায়, সেটা ব্যবহার করে দেখতে হবে। এগুলো সহজে শ্বাস নিতে সাহায্য করবে, কিন্তু ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এগুলো দুই দিনের বেশি ব্যবহার করা ঠিক হবে না, কেননা এগুলো ব্যবহারের পরিণাম আরও খারাপ হতে পারে।

৪. নাকে লবণাক্ত পানি ছিটকে দিয়ে ধুয়ে নিলে সেটা শ্লেষ্মা এবং ব্যাকটেরিয়া ধুয়ে নিয়ে যাবে।

যখন ডাক্তার দেখানো উচিতঃ

১. যদি মুখ ফুলে ওঠে কিংবা দৃষ্টি অস্পষ্ট হয়ে যায়, সেক্ষেত্রে ব্যক্তি হয়তো কোনো মারাত্মক অসুখে আক্রান্ত হয়েছে।

২. যদি সাত দিনেও লক্ষণগুলোর কোনো উন্নতি না হয়, সেক্ষেত্রে অনতিবিলম্বে চিকিৎসার আশ্রয় নেওয়া উচিত।

৩. যদি ব্যাকটেরিয়াবাহিত সাইনাসের সংক্রমণের কোনো চিকিৎসা করা না হয়, সেক্ষেত্রে এটা হয়তো বছরের পর বছর ধরে ভোগাবে এবং এ সংক্রান্ত দীর্ঘস্থায়ী ব্যাথায় আক্রান্ত করবে।

৪. নাক দিয়ে দীর্ঘস্থায়ীভাবে সংক্রামক শ্লেষ্মার নির্গমন ব্রঙ্কাইটিস, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, কিংবা অ্যাজমা ইত্যাদি রোগের কারণ হয়েও দাঁড়াতে পারে।

প্রতিরোধের উপায়ঃ

১. যেহেতু অ্যালার্জি, ঠাণ্ডা এবং ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো সমস্যাগুলো থেকে সাইনোসাইটিসের অবতরণ ঘটে, তাই এটা গুরুত্বপূর্ণ যে, সাইনোসাইটিসে আক্রান্ত হওয়ার আগেই এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা।

২. শরীরে যদি অ্যালার্জি থাকে সেক্ষেত্রে নিজের স্বাস্থ্যকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৩. ধূমায়িত এবং দূষিত পরিবেশ পরিত্যাগ করতে হবে। ধূমপান করলে, তা পরিত্যাগ করতে হবে।

৪. ঘুমানোর সময় মাথা উঁচু রাখতে হবে, যাতে সাইনাস নিজে থেকেই বেরিয়ে আসতে পারে।

৫. নাকে খুব বেশি জোরে যাতে আঘাত না লাগে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।

চিকিৎসা বা আরোগ্য লাভের উপায়ঃ

সাইনোসাইটিসের কারণে মাথব্যাথা হয়েছে বলে মনে হলে যতদ্রুত সম্ভব একজন নাক, কান, গলারোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে। প্রাথমিক পর্যায়ে এ রোগের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এন্টিবায়োটিক, এন্টিহিস্টামিন, নাকের ড্রপ এবং ব্যাথানাশক ওষুধ ব্যবহার করা হয়। যদি ওষুধপত্রে এই রোগ নিরাময় না হয় তবে সাইনাসের ওয়াশ বা আরো বড় ধরনের অপারেশনের প্রয়োজন হতে পারে।