মাস্ক ব্যবহারে ত্বকের বাড়তি যত্ন

সঠিক নিয়মে মাস্ক পরলে তা নাক আর মুখের ওপর চেপে বসে। ফলে মুখে বাতাস ঠিকমতো লাগে না। ফলে মুখত্বকের এই অংশের তাপমাত্রা আর আর্দ্রতা বেড়ে যায়। আবার মাস্ক ব্যবহারের কিছু সময় পর মুখ গরম আর ভেজা ভেজা লাগতে শুরু করে। তখন গরম আর ঘাম একসঙ্গে ত্বকে বিক্রিয়া করে। ফলে ব্রণ, ত্বকের রঙের পার্থক্য, দাগ বা ট্রমালাইনের মতো সমস্যা দেখা যায়।

এছাড়াও দিনের একটা বড় সময় মাস্ক পরে থাকায় ত্বকে যথেষ্ট অক্সিজেন পৌঁছায় না। এ জন্য ত্বকের কোষ বন্ধ হয়ে গিয়ে সেখানে ব্যাকটেরিয়ার জন্ম হওয়াসহ আরও নানা রকম সমস্যা দেখা দেয়।

স্বাস্থ্যগত সুরক্ষার জন্য মাস্ক পরার কোনো বিকল্প নেই। তবে ত্বকের সমস্যার সমাধানে অনেক বিকল্পই ব্যবহার করা যায়। ত্বকের ভিন্ন ভিন্ন ধরন, সমস্যা ও মাস্ক পরার সময়ের ওপর নির্ভর করে বেছে নেওয়া যাবে নির্দিষ্ট সমাধান।

ময়েশ্চারাইজার ব্যবহারঃ

মুখ অবশ্যই প্রতিদিন অন্তত দুবার ক্লিনজার বা ফেসওয়াশ দিয়ে পরিষ্কার করে ভালো করে মুছে নিয়ে ময়শ্চারাইজার লাগাতে হবে। যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁরা ক্রিমি ময়শ্চারাইজার ব্যবহার করতে পারে। স্বাভাবিক ত্বকে লোশন ময়শ্চারাইজার ও তৈলাক্ত ত্বকে জেল ময়শ্চারাইজার ভালো কাজ করে।

সানস্ক্রিন ব্যবহারঃ

মাস্কে মুখের অনেকটাই ঢাকা থাকলেও ঘর থেকে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে মিনারেল আর পানি আছে, এমন সানস্ক্রিন বেছে নিতে হবে।

চন্দন ব্যবহারঃ

মাস্ক দিয়ে মুখ ঢেকে রাখার ফলে খুব ঘাম হতে থাকে। এর ফলে ব্রণ ও ব্যথা হয়। এ ক্ষেত্রে চন্দন লাগালে আরাম পাওয়া যায়। তবে প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারঃ

ত্বক স্পর্শকাতর হলে মাস্ক ব্যবহারে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে, র‍্যাশও হতে পারে। অনেক সময় চুলকায় এবং এর ফলে চামড়াও ওঠে যায়। এর কারণ মাস্কের উপাদানের সঙ্গে ত্বকের বিক্রিয়া। তাই বাড়ি ফিরেই মাস্ক খুলে ফেলে ঠান্ডা পানি দিয়ে মুখ ধুয়ে নিতে হবে। এই ধরণের ত্বকে অ্যালোভেরা জেল ব্যবহারে লালচে ভাব কেটে যাবে।

বিশেষ সাবধানতাঃ

ভেজা মাস্ক থেকে ত্বকে সংক্রমণ ঘটে এবং প্রদাহ হয়। তাই সঙ্গে দু–তিনটি বাড়তি মাস্ক রাখা উচিত। আর মাস্ক ভিজে গেলেই বদলে নিতে হবে। মাস্ক পরার আগে মুখে ময়শ্চারাইজার দিতে হবে। এটি ত্বককে সুরক্ষা দেয়।

ত্বক খুব জ্বালা করলে বা লাল হয়ে গেলে বরফ পাতলা কাপড়ে মুড়ে লাগানো যেতে পারে। তাতে আরাম পাওয়া যাবে।

দীর্ঘ সময় মাস্ক পরে থাকার কারণে ঠোঁট শুষ্ক হয়ে উঠতে পারে। তাই ঠোঁটে লিপবাম লাগাতে হবে।

পরিষ্কার, শুকনা, আরামদায়ক মাস্ক পরিধান করতে হবে। রুক্ষ ও সিনথেটিক কাপড়ের মাস্ক ব্যবহার না করাই ভালো।