কুমড়ার বীজ হৃৎপিন্ডের জন্য উপকারী

কুমড়ার বীজ হৃৎপিন্ডের জন্য উপকারী

মিষ্টি কুমড়ার বীজ স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে বেশ পরিচিত। এই বীজে প্রচুর ম্যাগনেশিয়াম, আয়রন ও ফাইবার থাকে। তাই আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশেন প্রতিদিন এক কাপের চারভাগের এক ভাগ অর্থাৎ ৩০ গ্রাম মিষ্টি কুমড়ার বীজ খেতে পরামর্শ দেয়।

 মিষ্টি কুমড়ার বীজ খেলে যা যা উপকার পাওয়া যাবে-

হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারীঃ

মিষ্টি কুমড়ার বীজে প্রচুর পরিমাণে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, আঁশ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। এসব উপাদান হৃদপিন্ডের জন্য খুব উপকারী। এই বীজে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে, যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমিয়ে দিয়ে উপকারী কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এতে থাকা ম্যাগনেশিয়াম রক্তচাপের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ঘুম ভালো হয়ঃ

মিষ্টি কুমড়ার বীযে সেরোটোনিন নামক একটি নিউরো ক্যামিকেল আছে, যা প্রাকৃতিক ঘুমের ওষুধ হিসেবে পরিচিত। এতে ট্রিপটোফ্যান নামের একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা শরীরে সেরোটোনিন তৈরি করে। যার ফলে এই বীজ খেলে ভালো ঘুম হয়। তাই ঘুমানোর আগে পরিমাণ মতো মিষ্টি কুমড়ার বীজ খেলে উপকার পাওয়া যাবে।

ব্যথানাশক হিসেবে কাজ করেঃ

আথ্রাইটিসের ব্যথা সারাতে মিষ্টি কুমড়ার বীজ খুব উপকারী। তাছাড়া এই বীজ জয়েন্ট পেইনও দূর করতে পারে।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়ঃ

এই বীজে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ও ফাইটো ক্যামিকেল থাকে। এসব উপাদান দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করে এবং শরীর সুস্থ রাখে।

প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়ঃ

এই বীজে জিংক থাকে যা পুরুষের প্রজনন ক্ষমতা বাড়াতে ও প্রোস্টেটের সমস্যা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। মিষ্টি কুমড়ার বীজে ডাই হাইেড্রো এপি এন্ড্রোসটেনেডিয়ন নামক উপাদান থাকে, যা প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপকারীঃ

মিষ্টি কুমড়ার বীজ অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমিয়ে ব্লাড সুগার লেভেল নিয়ন্ত্রণে রাখে। এই বীজে ডাইজেস্টিভ প্রোটিন বেশি থাকায় তা ব্লাড সুগার লেভেল ঠিক রাখে।

ওজন কমায়ঃ

মিষ্টি কুমড়ার বীজে প্রচুর প্রোটিন থাকে বলে এটি খেলে শরীরে শক্তি জোগায়। এতে আঁশ বেশি থাকে বলে অতিরিক্ত ক্ষুধা কমে যায়। এর ফলে শরীরের অতিরিক্ত ওজনও কমে যায়।

নতুন চুল গজাতে সাহায্য করেঃ

এই বীজে কিউকারবিটাসিন নামের একটি অ্যামাইনো অ্যাসিড থাকে, যা চুল গজাতে সাহায্য করে। এতে প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, যা চুলের বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। মিষ্টি কুমড়ার বীজের তেল মাথার তালুতে নিয়মিত ব্যবহার করলে নতুন চুল গজাবে।

ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়ঃ

এই বীজ পাকস্থলী, ফুসফুস, ব্রেস্ট, কোলন ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

খাওয়ার নিয়মঃ

 মিষ্টি কুমড়ার বীজ সেদ্ধ করে অথবা সালাদে, তরকারিতে স্মুদি বা সসের সাথে মিশিয়ে খাওয়া যায়।