আগুন থেকে কিভাবে রক্ষা পাবেন জেনে নিন

আগুন থেকে কিভাবে রক্ষা পাবেন জেনে নিন
আগুন থেকে কিভাবে রক্ষা পাবেন জেনে নিন

আগুন থেকে কিভাবে রক্ষা পাবেন জেনে নিনঃ

সাধারণত আগুন হলো বাতাসের অক্সিজেনের সাথে জ্বালানির কার্বন ও হাইড্রোজেনের মিলনে সৃষ্ট এক বিশেষ রাসায়নিক বিক্রিয়া। আলোর মাধ্যমে এ রাসায়নিক বিক্রিয়া শক্তিতে রূপান্তরিত হয়। নিয়ন্ত্রিত আগুন আমাদের বন্ধু হলেও একটু অবহেলার কারণে শত্রুতে পরিণত হতে বিন্দুমাত্র দেরি করে না। বসতবাড়ি্‌, দোকানপাট, অফিস বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সতর্কতার অভাবে মুহূর্তের অগ্নিকাণ্ডে ভস্মিভূত হতে পারে।

 

তাই অবশ্যই ্যে প্রধাণ তিনটি মাথায় রাখতে হবে, তা হলো_

প্রথমত, অগ্নিকান্ডের কারণ জানা দ্বিতীয়ত, এ থেকে সতর্ক থাকার নিয়ম কানুন জানা। আর তৃতীয়ত, অগ্নিকাণ্ডের পর করণীয় কাজ সম্পর্কে জানা।

 

যেসব কারণে অগ্নিকান্ড ঘটে_

 

  • গ্যাসের চুলা বন্ধ না করা এবং গ্যাসের লাইন ত্রুটিপূর্ণ বা ছিদ্র থাকা।
  • ত্রুটিপূর্ণ বৈদ্যুতিক তার বা বৈদুত্যিক গোলযোগ।
  •  উত্তপ্ত তেল থেকে আগুনের সৃষ্টি হলে।
  • আতশবাজি বা পটকা থেকে।
  •  বজ্রপাতের কারণে।
  • সাধারণ বিদ্যুতের তার দিয়ে বেশি ভোল্টের বিদ্যুৎ সরবরাহ করলে।
  • চুলা জ্বালিয়ে চুলার উপর কাপড় শুকাতে দিলে।
  •  সিগারেটের জ্বলন্ত আগুন থেকে।
  • উত্তপ্ত ছাই থেকে।
  •  নিম্নমানের বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার করলে।
  • বাচ্চাদের আগুন নিয়ে খেলা করতে দিলে।

 

সতর্ক থাকাত উপায়_

 

  •  রান্নার সময় সহজে খুলে ফেলা যায় এমন পোশাক ব্যবহার করতে হবে। মেয়েদের ওড়না-শাড়ি সাবধানে রাখতে হবে।
  • চুলার কাজ শেষ হওয়ার পর তা বন্ধ করতে হবে। গ্যাসের চুলা হলে ভালোভাবে সুইচ বন্ধ করতে হবে। সাধারণ চুলা বা লাকড়ির চুলা হলে ব্যবহারের পর পানি দিয়ে পরিপূর্ণভাবে নেভাতে হবে।
  • মাটির চুলার তিন পাশে অন্তত আড়াই ফুট দেয়াল তুলে দিতে হবে। ঢাকনা বা চিমনিযুক্ত বাতি ব্যবহার করতে হবে এবং মোমবাতি ব্যবহারের সময় সতর্ক থাকতে হবে।
  • চুলার উপর কখনোই কাপড় শুকাতে দেওয়া যাবে না।
  • গরম তরকারি ও ফুটন্ত পানি নাড়া চাড়ার সময় সতর্ক থাকতে হবে।
  • মশার কয়েল এমন স্থানে রাখতে হিবে যেখান থেকে অন্য কিছুতে আগুন লাগার কোনো ঝুঁকি থাকবে না।
  • মানসম্পন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে এবং ত্রুটিপূর্ণ তার ব্যবহার করা যাবে না। ত্রুটিপূর্ণ তারথাকলেও তা দ্রুত সারিয়ে নিতে হবে।
  • কেউ বিদ্যুতায়িত হলে সম্ভব হলে- মেইন সুইচ বন্ধ করে দিতে হবে।
  • ধূমপান শেষে বিড়ি-সিগারেটের বাদ দেয়া অংশের আগুন নিভিয়ে ফেলতে হবে।।মশারির ভেতর বা খাটে শুয়ে শুয়ে কোনোভাবেই ধূমপান করা যাবে না। আমাদের দেশের বেশির ভাগ পুরুষরা বাসায় পরিবারের সকল সদস্য/ছোট্ট বাচ্চাদের সামনে সিগারেট খেয়ে থাকে,যা করা একেবারেই উচিত নয়।
  • বাচ্চাদের আগুন নিয়ে খেলা করতে দেওয়া যাবে না।
  • অগ্নিকাণ্ড প্রতিরোধের পর্যাপ্ত জ্ঞান এবং এর বিভিন্ন কারণ নিয়ে আলোচনা করা প্রয়োজন। ইন্টারনেটের ইনফরমেশনগুলো পড়ে এবং তা ভালোভাবে জেনে আগুন সম্পর্কে সতর্ক থাকা যায়।

 

আগুন লাগার সময় করণীয় কাজঃ

কোথাও কোনোভাবে আগুন লাগলে, প্রথমেই খুব দ্রুততার সঙ্গে কাছের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে খবর দিতে হবে। এজন্য স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের ফোন নাম্বার সংগ্রহ করা অত্যন্ত জরুরী।

একটু অবেহলার কারণে মুহূর্তেই অনেক কিছু ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে আমাদের অবশ্যই সচেতন থাকা জরুরি। কেননা ‘বাঁচতে হলে জানতে হবে’ এবং আগুনের বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

 

আরো দেখুন————–

 

আগুন থেকে কিভাবে রক্ষা পাবেন আগুন থেকে কিভাবে রক্ষা পাবেন